|
-
মুক্তিবাহিনীর এ্যামবুশ দল কুমিল্লার এক মাইল উত্তরে পাক-বর্বরদের একটি টহলদার প্লাটুনকে এ্যামবুশ করে। মুক্তিযোদ্ধাদের অতর্কিত আক্রমণে পাকসেনারা হতচকিত হয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে পলায়ন করে। এই এ্যামবুশে ১১ জন পাকসেনা নিহত ও তিনজন আহত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা পাকসেনাদের একটি মেশিন গান ও কয়েকটি জি-৩ রাইফেল দখল করে।
-
করাচীর মাসরুর বিমান ঘাঁটির ইন্সট্রাক্টর-ফ্লাইয়ার, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য পাকিস্তান বিমানবাহিনীর টি-৩৩ বিমানে করে মুজিবনগর আসার সময় দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ২৯ নভেম্বর, ১৯৪২ ঢাকার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
-
মাসুদ হোসেন আলমগীর নবেলের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা দল সারিয়াকান্দি থানার আওলাকান্দি গ্রামের পূর্ব পাশে যমুনা নদীতে একটি পাকমিলিটারী লঞ্চকে আক্রমণ করে। রকেট লঞ্চারের আঘাতে লঞ্চটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয় এবং সকল আরোহী নিহত হয়।
-
পাঁচদিন পাঁচরাত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধারা কুড়িগ্রামের চিলমারী এলাকা পাকহানাদারমুক্ত করে। আনন্দে উদ্বেলিত জনগণ চিলমারীর রণক্ষেত্রে এসে দেখতে থাকে বাঙ্কারে বাঙ্কারে পড়ে থাকা শতাধিক হানাদার ও রাজাকারের লাশ।
-
মুক্তিযোদ্ধা পান্ডব চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা সুনামগঞ্জে পাকবাহিনীর মুসলিমপুর অবস্থান আক্রমণ করে। এক ঘন্টারও অধিক সময় যুদ্ধের পর পাকসেনাদের চাপে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ কৌশল পরিবর্তন করে এবং জিরানপুর গ্রামে এসে অবস্থান নেয়।
-
মুক্তিবাহিনী খুলনায় পাকবাহিনীর শ্যামনগর অবস্থানের ওপর তিনটি কলামে যথাক্রমে ক্যাপ্টেন হুদা, লেঃ বেগ এবং নায়েব সুবেদার আবদুল গফুর ও হাবিলদার সোবহানের নেতৃত্বে তীব্র আক্রমণ চালায়। তুমুল যুদ্ধের পর পাকসেনারা তাদের অবস্থান ত্যাগ করে এবং শ্যামনগর মুক্তিবাহিনী দখল চলে আসে। এই সংঘর্ষে মুক্তিবাহিনী ৪ জন পাকসেনার লাশ উদ্ধার করে ও ৪ জনকে আহত অবস্থায় বন্দী করে। অপরদিকে, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার ইলিয়াসসহ ৮ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং ৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে পাকসেনারা ধরে নিয়ে যায়।
-
রাওয়ালপিন্ডিতে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের সদর দফতর থেকে এক প্রেসনোটে বলা হয়ঃ বেআইনী আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান প্রখ্যাত আইনজীবী এ. কে. ব্রোহীকে বিশেষ সামরিক আদলতে তাঁর পক্ষ সমর্থনের জন্য মনোনীত করেছেন।
প্রেসনোটে উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগ প্রধান গত ১১ আগস্ট বিশেষ সামরিক আদালতে প্রথম উপস্থিত হবার পর আত্মপক্ষে সমর্থনের জন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তিনজন আইনজীবীর নামের তালিকা প্রদান করেন। গত ১১ আগস্ট পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার অভিযোগে শেখ মুজিবুর রহমানের রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার শুরু হয়েছে। মামলায় সমস্ত শুনানি গোপন রাখা হবে।
-
সামরিক আইন প্রশাসক লেঃ জেনারেল টিক্কা খান ১৩ জন জাতীয় পরিষদ সদস্যকে সামরিক আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দেয়। এঁরা হচ্ছেনঃ নূরজাহান মোর্শেদ, মিজানুর রহমান চৌধুরী, এম. ওয়ালিউল্লাহ, কাজী জহিরুল কাইয়ুম, খোন্দকার মোশতাক আহমদ, খোরশেদ আলম, নূরুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ ইদ্রিস, মোস্তাফিজুর রহমান, খালেদ মোহাম্মদ আলী, খাজা আহমদ, নূরুল হক এবং মোহাম্মদ হানিফ।
-
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির এক বৈঠকের প্রস্তাবে বলা হয়, ভারতীয় যুদ্ধবাজ ও তাদের চরদের যোগসাজশে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ব্যক্তিদের দমন করার কাজে সরকার যে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, মজলিশে শুরা তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।
|