Home Today in 1971 September September 17, 1971

September 17, 1971 Print E-mail

 

  • পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ডাঃ এ.এম. মালিক ১০ সদস্যের প্রাদেশিক মন্ত্রীসভার নাম ঘোষণা করেন। মন্ত্রীরা হলেনঃ রংপুরের আবুল কাশেম, বগুড়ার আব্বাস আলী খান, বরিশালের আখতার উদ্দিন খান, ঢাকার এ. এস. এম. সোলায়মান, খুলনার মওলানা এ. কে. এম. ইউসুফ, পাবনার মওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, কুষ্টিয়ার নওয়াজেশ আহমদ, নোয়াখালীর ওবায়েদুল্লাহ মজুমদার, চট্টগ্রামের অধ্যাপক শামসুল হক ও পার্বত্য চট্টগ্রামের আউংশু প্র চৌধুরী। আউংশু প্র চৌধুরী ব্যাতিত বাকী ৯ জন মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন।

  • শিবালয় থানায় পাকহানাদার বাহিনী মুক্তিবাহিনীর গেরিলা ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলা চালায়। মুক্তিযোদ্ধারা পাল্টা আক্রমণ চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক ঘন্টা যুদ্ধ হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের চাপের মুখে পাকসেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এই সংঘর্ষে ১০ জন পাকসেনা ও ১১ জন রাজাকার নিহত হয়।

  • ২নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনী পাকসেনাদের একটি শক্তিশালী দলকে মেহারী গ্রামে এ্যামবুশ করে। মুক্তিযোদ্ধাদের আকস্মিক আক্রমণে পাকসেনারা দিকবিদিক হারিয়ে ফেলে এবং ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। এই এ্যামবুশে ২১ জন পাকসেনা নিহত ও ৪৩ জন আহত হয়।

  • 'খ' অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল নিয়াজী ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা সফর করেন। পরে তিনি কিশোরগঞ্জে তারাইলের রাজাকার ও আলবদরদের সঙ্গে মিলিত হন।

  • পিডিপি প্রধান নুরুল আমিন ঢাকায় বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে অসামরিক সরকার গঠন করা হলেও আমরা এখনো বিপদমুক্ত হইনি। দুশমনের দল এখনো আমাদের চারপাশে চলাফেরা করছে।

  • বাংলাদেশ ফোর্স হেডকোয়ার্টার মুজিবনগর গণসংযোগ বিভাগের 'যুদ্ধ বিষয়ক বুলেটিন'-এ বলা হয়ঃ মহেন্দ্রনগরে মুক্তিবাহিনী ও পাকসৈন্যদের মধ্যে যুদ্ধে ১ জন পাকসৈন্য নিহত হয়।
    রংপুরের বনতারা এলাকায় মুক্তিবাহিনী পাকসৈন্যদের ওপর গুলি চালায়। এতে ৫ জন পাকসৈন্য নিহত হয়। এর অব্যবহিত পরই পাকসেনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে এক তিব্র যুদ্ধে ৮ জন পাকসেনা নিহত হয়।


  • গোলাম আযম মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল এডুকেশন সেন্টারে ট্রেনিংরত রাজাকারদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি বলেন, 'একমাত্র মুসলিম জাতীয়তায় পূর্ণবিশ্বাসী ব্যক্তিরাই পাকিস্তানের হেফাজতের জন্যে জীবন দান করতে পারে এবং সত্যিকার মুসলমানরাই যে পাকিস্তানের প্রকৃত সম্পদ, এই সার্টিফিকেট পাকিস্তানের দুশমনরাই তাদের কার্যকলাপের দ্বারা এবার প্রদান করেছে।'

  • ২নং সেক্টরে একদল মুক্তিযোদ্ধা সায়দাবাদের কাছে পাকসেনাদের একটি ঘাঁটিতে অতর্কিতে আক্রমণ চালিয়ে ২টি জীপ ও ১টি ৩ টন গাড়ী ধ্বংস করে।

  • ৮নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনী পাকহানাদারদের মসলিয়া ঘাঁটি আক্রমণ করে। এই আক্রমণে ৭জন পাকসেনা নিহত হয়।

  • ৮নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনী পাকসেনাদের পরাগপুর অবস্থানের ওপর তীব্র আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণে ৬ জন পাকসেনা নিহত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা কোন ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরে আসে।

  • মুক্তিবাহিনী মৌলভীবাজারের লুবাচরা এলাকায় পাকসেনাদের বিরুদ্ধে এক দুঃসহসিক অভিযান চালায়। এতে ২০ জন পাকসেনা নিহত ও ৩০ জন আহত হয়। অপরদিকে মুক্তিবাহিনীর ৩ জন বীর যোদ্ধা আহত হয়।

  • ৮নং সেক্টরের গোজাডাঙ্গা সাব-সেক্টরে মুক্তিবাহিনী পাকবাহিনীর রাজাপুর বিওপি-র একদল সেনাকে গঙ্গাদেশপুর এলাকায় এ্যামবুশ করে। এই এ্যামবুশে ২ জন পাকসেনা নিহত ও ৩ জন আহত হয়।